রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে মারুফ ওরফে দুখু (১৮) নামের এক যুবক নিহত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে ধলপুর সিটি গলির পাশের মাঠে এ গুলির ঘটনা ঘটে। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মারুফ বর্তমানে ধলপুর এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। তিনি আব্দুর রশিদের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট ছিলেন। পেশায় তিনি সায়েদাবাদ মালঞ্চ সেন্টারের পাশের একটি গলির পাতিল কারখানার শ্রমিক ছিলেন।
নিহতের স্ত্রী মিম জানান, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন মারুফ। এরপর বাসার পাশেই সিটি পল্লীর মাঠে অবস্থানকালে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির শব্দে স্থানীয়রা ও স্বজনেরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা জানান তিনি আর বেঁচে নেই।
স্বামীর অকালমৃত্যুতে শোকাভিভূত মিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার স্বামী অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিল। তিনি কারো সাথে কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব বা ঝামেলায় জড়াতেন না। কারা, কী উদ্দেশ্যে তাকে এভাবে গুলি করে হত্যা করল-আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না।"
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।
মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহে পিটিআই-এর একাডেমি-কাম-প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর অধীন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়। এ কারণে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যথাসময়ে জানানো হবে। সব পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করলে পরিকল্পনার আর কিছু থাকে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিদ্যমান আইনি অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আগের বিধানই কার্যকর থাকবে। এর আগে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পর এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা হয়নি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। AITV/RONY
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির শিকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। এমন তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। শনিবার তিনি জানান, জুন মাসে রিসোর্টটিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পর্যটন এলাকার অনেক ইকো রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদনহীন রিসোর্টগুলোর বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙে লিখতে হবে। পাশাপাশি বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা অতিরিক্ত নকশা রাখা যাবে না। প্লেটের মাপ, রং, উপকরণ ও লেখার ধরন—সব ক্ষেত্রেই বিআরটিএর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ভারতের অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়েই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা উচিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এ মন্তব্য করেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাই এবং এ দেশে গণতান্ত্রিকভাবেই তা করব।” বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্য তুলে ধরে প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা নেপাল নই। আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আম্বেদকর আছেন। আমাদের গান্ধী আছেন। আমাদের ভগৎ সিং আছেন। আমাদের সংবিধান আছে। আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার আছে।” প্রকাশ রাজের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের অনীহা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছেন, কারণ আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আপনারা শক্তি প্রয়োগ করছেন।” শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানানোকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা অস্ত্রধারী নই। আমাদের অস্ত্র হলো সংবিধান। আমাদের অস্ত্র হলো প্রতিবাদ করার অধিকার।” সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
ফ্লাইটের সময়সূচি, নতুন সিদ্ধান্ত ও টিকিটসংক্রান্ত তথ্য জানতে যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এদিকে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত সৌদিগামী দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মোট ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৭ হাজার ৭০১ জন যাত্রী। বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৮টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি রয়েছে। এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৫টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ জানান, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। বাতিল হওয়া ১১৪টি ফ্লাইটের মধ্যে ৫০টি সরাসরি এবং ৬৪টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ক্রসফায়ার নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের পদে পরিবর্তন আনার বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরবর্তী আইজিপি হিসেবে ১৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের নামও বিবেচনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্যসংবলিত নথি তলব করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও)। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সরকারপ্রধানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। অন্য কোনো কর্মকর্তার নামও সামনে আসতে পারে। আলোচনায় থাকা তিন কর্মকর্তা হলেন—আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ, অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবিব পলাশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই তিন কর্মকর্তা পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য নিয়োগের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা প্রতিবেদন, কর্মকর্তাদের অতীত কর্মজীবন এবং সংশ্লিষ্ট পদের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা গুরুত্ব পেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জাপান সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরার পর পুলিশ নেতৃত্বে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। কেন আলোচনায় আইজিপি পদে পরিবর্তন? গত সোমবার পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে পুলিশ ক্রসফায়ারে যেতে দ্বিধা করবে না। একই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে তাদের ‘ফ্যাসিস্ট’ বলা হয়, আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে ‘দুর্বল’ আখ্যা দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি। আইজিপির এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক ও সরকারি পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী মন্তব্যটিকে সরকারের জন্য ‘বিব্রতকর’ বলে অভিহিত করেন। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনা করবেন। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য ‘ঠিক হয়নি’। এ বিষয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রয়েছে বলেও জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর আইজিপি পদে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়। পরে পুলিশ সদর দপ্তরের এক ব্যাখ্যায় বলা হয়, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারবহির্ভূত শাস্তি বোঝাতে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। বরং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ বোঝাতে শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছিলেন বলে ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়। হাসিব আজিজ: এপিবিএন প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা হাসিব আজিজ বর্তমানে এপিবিএনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের এই কর্মকর্তা ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালের মার্চে তাকে এপিবিএনের প্রধান করা হয়। সিএমপির কমিশনার হওয়ার আগে তিনি সিআইডির ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলের কমান্ড্যান্ট ছিলেন। কর্মজীবনে ইন্টারপোল ডেস্কের প্রধান, টাঙ্গাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট এবং এপিবিএন সদর দপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ১৯৭১ সালে শরীয়তপুরে জন্ম নেওয়া হাসিব আজিজ সাবেক আইজিপি এম আজিজুল হকের সন্তান। এম আজিজুল হক ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাও ছিলেন। মোশাররফ হোছাইন: সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই সিআইডি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের এই কর্মকর্তা ১৯৯৫ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে পুলিশে যোগ দেন। তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাজ্যে আইনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। সিআইডি প্রধান হওয়ার আগে তিনি প্রেষণে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই পদে থাকাকালেই তিনি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পান। মাঠপর্যায়ে পিরোজপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এ ছাড়া সিআইডি সদর দপ্তর, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা ইউনিটসহ বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, ডিএমপি, সিএমপি, র্যাব এবং পুলিশ সদর দপ্তরেও বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। আহসান হাবিব পলাশ: এসআরবির প্রথম প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবিব পলাশ নবগঠিত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) প্রথম মহাপরিচালক। এর আগে তিনি র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা পলাশ ১৯৯৫ সালে এএসপি হিসেবে পুলিশে যোগ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ায় পেশাগত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। ২০২৬ সালের মার্চে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পেয়ে র্যাবের ডিজি হিসেবে নিয়োগ পান পলাশ। ২৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। পরে সেপ্টেম্বরে এসআরবির প্রথম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। র্যাবের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) ছিলেন। এর আগে ডিএমপি, সিএমপি, সিলেট মহানগর পুলিশ, এপিবিএন, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং বিভিন্ন জেলার মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। ডিএমপি কমিশনারের নামও আলোচনায় আইজিপি পদে সম্ভাব্য পরিবর্তনের আলোচনায় ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের নামও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে কাকে বেছে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে, আইজিপির ক্রসফায়ার-সংক্রান্ত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পুলিশ নেতৃত্বে সম্ভাব্য পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হলেও নতুন আইজিপি নিয়োগের বিষয়টি এখনো সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হবে।
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙে লিখতে হবে। পাশাপাশি বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা অতিরিক্ত নকশা রাখা যাবে না। প্লেটের মাপ, রং, উপকরণ ও লেখার ধরন—সব ক্ষেত্রেই বিআরটিএর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে আরিচা, পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট পরিদর্শন করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) আরিচা নদীবন্দরের আওতাধীন এসব ঘাট ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় ঘাটগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন সচিব। পরিদর্শনকালে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঘাটগুলোতে নেওয়া ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। যাত্রীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নির্বিঘ্ন নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন সচিব। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সদস্য (অর্থ) ক্যাপ্টেন মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা রানী কর্মকার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু জাফর মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ কবির ও মো. মাসুদুর রহমানসহ বিআইডব্লিউটিএ এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।