১৭ অক্টোবর, শনিবার সকালে কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে ৭ জন নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলেন, কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী সাতজনের মৃত্যু ও আরও বেশ কয়েকজনের নিখোঁজ থাকার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। আমি এ ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, ব্যথিত ও শোকাহত।
গোলাম পরওয়ার বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের উখিয়ার এ ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমি মহান আল্লাহর কাছে নিহত ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করছি। পাশাপাশি হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, শনিবার সকাল ৮টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত রিসোর্টের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব দায়িত্বশীল সংস্থাকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিসোর্টগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থাসহ সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পর্যটক কিংবা নাগরিককে আর ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হতে না হয়।
জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, সবুজায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ দেন। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের মাঠ, বাগান ও বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সার্বিক পরিবেশ, অবকাঠামোগত অবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত তদারকি, গাছপালার যথাযথ পরিচর্যা এবং অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের পরিবেশ ও সৌন্দর্য বজায় রাখতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির শিকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। এমন তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। শনিবার তিনি জানান, জুন মাসে রিসোর্টটিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পর্যটন এলাকার অনেক ইকো রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদনহীন রিসোর্টগুলোর বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।
মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহে পিটিআই-এর একাডেমি-কাম-প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর অধীন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়। এ কারণে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যথাসময়ে জানানো হবে। সব পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করলে পরিকল্পনার আর কিছু থাকে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিদ্যমান আইনি অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আগের বিধানই কার্যকর থাকবে। এর আগে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পর এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা হয়নি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। AITV/RONY
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙে লিখতে হবে। পাশাপাশি বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা অতিরিক্ত নকশা রাখা যাবে না। প্লেটের মাপ, রং, উপকরণ ও লেখার ধরন—সব ক্ষেত্রেই বিআরটিএর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফ্লাইটের সময়সূচি, নতুন সিদ্ধান্ত ও টিকিটসংক্রান্ত তথ্য জানতে যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এদিকে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত সৌদিগামী দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মোট ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৭ হাজার ৭০১ জন যাত্রী। বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৮টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি রয়েছে। এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৫টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ জানান, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। বাতিল হওয়া ১১৪টি ফ্লাইটের মধ্যে ৫০টি সরাসরি এবং ৬৪টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
বান্দরবানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শৈক্যচিং মার্মাকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে বান্দরবান পৌর শহরের মধ্যমপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ওই নারীর সঙ্গে গত পাঁচ মাস ধরে শৈক্যচিং মার্মার সম্পর্ক ছিল। এ সময় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নিজের সাইনী রিসোর্টে নিয়ে তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন রিসোর্টে খাবার খাওয়ার সময় ওই নারী বিয়ের প্রসঙ্গ তুললে শৈক্যচিং মার্মা তাতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন রিসোর্টে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীকে ধাক্কা দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওই নারীর পাঁচ বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন। শৈক্যচিং মার্মা তাঁর দূরসম্পর্কের দুলাভাই। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শৈক্যচিং মার্মা। তাঁর দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার করা হয়েছে এবং অর্থ আদায়ের জন্য ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে। টাকা না দেওয়ায় ওই নারী মামলা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) কামরুল ইসলাম বলেন, ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মধ্যমপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে শৈক্যচিং মার্মাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনত নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাটুয়ারটেক এলাকায় অবস্থিত 'টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয়' সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি। মন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং অগ্নিকাণ্ডে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সাথে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, "এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো এবং উদ্ধার কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি।" উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডকে জরুরি ভিত্তিতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। ১. অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণ এবং পর্যটকদের সহায়তায় একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে প্রেরন। ২. স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পর্যটন খাতের অংশীজনদের সাথে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জরুরী সভা আয়োজন। সভায় সুপারিশকৃত কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন। ৩. ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পর্যটন কেন্দ্রসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহায়তায় অগ্নি নিরাপত্তা (Fire Safety) জোরদারকরণ এবং জরুরি উদ্ধারবিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। মন্ত্রী উখিয়ার ইনানী মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাটুয়ারটেক এলাকায় অবস্থিত 'টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয়' সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এ অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দানের জন্য মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা জানান।
স্বাস্থ্য খাতে যেকোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে এবং স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দকৃত বাজেটের প্রতিটি পয়সা জনগণের সেবায় স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যয় করা হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির বিন্দুমাত্র আলামত পাওয়া গেলে—তিনি যত বড় ক্ষমতাধর ব্যক্তিই হোন না কেন—আমাদের সরকার বা প্রধানমন্ত্রী এক মুহূর্তের জন্যও তাকে প্রশ্রয় দেবেন না; তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট ও মেডিকেল কলেজের ৩২তম ডিএনএমসি ডে -তে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। স্বাস্থ্য খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ড মুহিত বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের স্বাস্থ্য খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এমনকি এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানেও টানা ১২ বছর কোনো আয়কর দেওয়া হয়নি, সেই অর্থও লুটপাট করা হয়েছে। বর্তমান সরকার ও নতুন গভর্নিং বডি এসে এখন সেই পুঞ্জীভূত দায় শোধ করছে।” দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে কোনো খাতেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির বিন্দুমাত্র আলামত পাওয়া গেলে—তিনি যত বড় ক্ষমতাধর ব্যক্তিই হোন না কেন—আমাদের সরকার বা প্রধানমন্ত্রী এক মুহূর্তের জন্যও তাকে প্রশ্রয় দেবেন না; তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহারের নিশ্চয়তা দিয়ে স্বাস্থ্য ড এম এ মুহিত উল্লেখ করেন, চব্বিশের গণ-আকাঙ্ক্ষার পরিবর্তনের পথ ধরেই সরকার স্বাস্থ্য খাত পুনর্গঠন করছে। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে স্বাস্থ্য খাতে যে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার প্রতিটি পয়সা নতুন ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ এবং সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের কাছে বিনামূল্যে ওষুধ ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতেই ব্যয় করা হবে।